Posts

বিশেষ লেখা

পশ্চিমা বিশ্ব কেন ইসলামকে ভয় পায় তার ৫টি কারণ

Image
এক নাম্বার : অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। ইসলাম পশ্চিমা পুঁজিবাদের ভিত্তিকেই   চ্যালেঞ্জ করে।কোনো সুদ নেই ,কোনো শোষণ নেই।ঋণের ফাঁদে মানুষকে আটকে রাখার কোনো সুযোগ নেই। ইসলাম বলে সম্পদ শুধু কিছু মানুষের হাতে জমে থাকবে না।এটা সমাজে ঘুরবে,সবার উপকারে আসবে।ন্যায়,দান,সীমাবদ্ধতা।এই ব্যবস্থা সেইসব শিল্পের জন্য হুমকি। যখন পুরো অর্থনীতি দাঁড়িয়ে থাকে মানুষকে ঋণের বোঝায় আটকে রাখার উপর।তখন এমন এক দীন যা মানুষকে মুক্তি দেয় তা তাদের জন্য অস্বস্তিকর।

আল-মুত্তাকি লিল্লাহ (৯৪০–৯৪৪ খ্রি.): এক অসহায় খলিফার উপাখ্যান

Image
খলিফা আর - রাজির মৃত্যুর পর আব্বাসীয় খিলাফত এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় , যেখানে খলিফা পদটি কেবল একটি নামমাত্র উপাধিতে পরিণত হয়। ক্ষমতার আসল চাবিকাঠি চলে যায় আমীরুল উমারা বা প্রধান সেনাপতিদের হাতে। আর - রাজির পর খলিফা হন তাঁর ভাই আল - মুত্তাকি লিল্লাহ । খলিফা আর - রাজি যখন মারা যান , তখন প্রভাবশালী ' আমীরুল উমারা ছিলেন বজকম   নামক এক তুর্কি সেনাপতি। তিনি আর - রাজির ভাই আল - মুত্তাকি - কে সিংহাসনে বসান। আল - মুত্তাকি ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক এবং ভালো মানুষ। তিনি রোজা রাখতেন এবং ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। কিন্তু রাষ্ট্র চালানোর মতো সামরিক শক্তি বা চাতুর্য তাঁর ছিল না। তিনি জানতেন যে তাঁর জীবন ও সিংহাসন পুরোপুরি সেনাপতিদের মর্জির ওপর টিকে আছে।

ক্ষমতার শেষ প্রদীপ: আর-রাজি বিল্লাহ: (৯৩৪–৯৪০ খ্রি.)

Image
  খলিফা আল - কাহিরকে অন্ধ করে ক্ষমতাচ্যুত করার পর , তুর্কিরা আল - মুক্তাদিরের পুত্র আর - রাজি বিল্লাহ - কে খিলাফতের বিংশতম খলিফা হিসেবে সিংহাসনে বসায়। ঐতিহাসিকরা তাঁকে আব্বাসীয়দের শেষ প্রকৃত খলিফা বলে মনে করেন , কারণ তাঁর পর থেকে খলিফার শাসন করার মতো আর কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।

আল-কাহির বিল্লাহ: (৯৩২–৯৩৪ খ্রি.) আব্বাসীয় খিলাফতের এক বিষাদময় ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়

Image
  খলিফা আল - মুক্তাদিরের সেই করুণ মৃত্যুর পর তাঁর ভাই আল - কাহির বিল্লাহ ( ৯৩২ – ৯৩৪ খ্রি .) আব্বাসীয় খিলাফতের ঊনবিংশতম খলিফা হিসেবে ক্ষমতায় বসেন। তিনি ছিলেন একাধারে অত্যন্ত নিষ্ঠুর , সাহসী এবং খামখেয়ালি একজন শাসক। খলিফা আল - মুক্তাদিরকে হত্যার পর সেনাপতি মুনিস আল - মুজাফফর এবং অন্য তুর্কি কর্মকর্তারা আল - মুক্তাদিরের ভাই জাফরকে বেছে নেন ,

আল-মুক্তাদির বিল্লাহ: (৯০৮–৯৩২ খ্রি.) এক নাবালক খলিফার করুন ইতিহাস

Image
  আল - মুক্তাদিরের শাসনকাল আব্বাসীয় ইতিহাসের এক ট্র্যাজিক অধ্যায়। তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ক্ষমতায় থাকলেও , এটি ছিল মূলত নারী ও আমলাদের শাসন এবং সাম্রাজ্যের পতনের চূড়ান্ত সূচনা। আল - মুক্তাদির যখন সিংহাসনে বসেন , তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর । আব্বাসীয় ইতিহাসে তিনিই ছিলেন প্রথম নাবালক খলিফা। দরবারের আমলারা জেনেশুনেই এক শিশুকে খলিফা বানিয়েছিলেন যাতে তারা পর্দার আড়াল থেকে দেশ শাসন করতে পারে।

আব্বাসীয় খিলাফতের উজ্জ্বল নক্ষত্র আল-মুক্তাফি বিল্লাহ: (৯০২–৯০৮ খ্রি.)

Image
  ৯০২ খ্রিস্টাব্দে খলিফা আল - মুতাদিদের মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র আল - মুক্তাফি বিল্লাহ ( ৯০২ – ৯০৮ খ্রি .) আব্বাসীয় খিলাফতের সপ্তদশ খলিফা হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন আব্বাসীয় বংশের শেষ অত্যন্ত সফল খলিফাদের একজন। আল - মুতাদিদ তাঁর পুত্রকে এমন একটি সাম্রাজ্য দিয়ে গিয়েছিলেন যা প্রশাসনিক ও সামরিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। ফলে আল - মুক্তাফিকে তাঁর পূর্বসূরিদের মতো তুর্কিদের ষড়যন্ত্র বা সিংহাসন নিয়ে কাড়াকাড়ির মুখোমুখি হতে হয়নি। তিনি অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এবং জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় বসেন।

আব্বাসীয় খিলাফতের ত্রাণকর্তা খলিফা আল-মুতাদিদ বিল্লাহ: (৮৯২–৯০২ খ্রি.)

Image
  আল - মুতাদিদ বিল্লাহ ছিলেন আব্বাসীয় খিলাফতের ষোড়শ খলিফা। তাঁকে ইতিহাসের পাতায় দ্বিতীয় মুতাসিম বা আব্বাসীয়দের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। তাঁর শাসনকাল ছিল পতনোন্মুখ আব্বাসীয় সাম্রাজ্যকে নতুন করে প্রাণ দেওয়ার এক অসাধারণ অধ্যায়। ক্ষমতা লাভ : আল - মুতাদিদ উত্তরাধিকার সূত্রে নয় , বরং নিজের বীরত্ব ও মেধার জোরে ক্ষমতায় এসেছিলেন।তিনি ছিলেন মহান সমরনায়ক মুয়াফফাকের পুত্র। তাঁর পিতা খলিফা না হয়েও সাম্রাজ্য রক্ষা করেছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর আল - মুতাদিদ তাঁর চাচা খলিফা আল - মুতামিদের কাছ থেকে কৌশলে ও শক্তিতে উত্তরাধিকার আদায় করে নেন।৮৯২ খ্রিস্টাব্দে চাচার মৃত্যুর পর তিনি খলিফা হন। তিনি এমন এক সময়ে দায়িত্ব নেন যখন সাম্রাজ্যের বিভিন্ন অংশ স্বাধীন হয়ে যাচ্ছিল এবং রাজকোষ ছিল প্রায় শূন্য।

মির্জা গালিবনামা - যদি জান্নাত না থাকত, তবে কি আপনি সিজদা দিতেন?

Image
  দিল্লির এক পড়ন্ত বিকেলে জামে মসজিদের সিঁড়িতে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বসে ছিলেন মির্জা আসাদুল্লাহ খাঁ গালিব। পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন শহরের এক নামকরা মাওলানা , যার কপালে সিজদার চিহ্ন স্পষ্ট এবং বগলে মোটা কিতাব। মাওলানা গালিবকে দেখে একটু বিদ্রূপের সুরে বললেন , মির্জা সাহেব , দিন তো শেষ হয়ে এলো , আখেরাতের পুঁজিতে তো দেখি শূন্যতা। কবরে যখন ফেরেশতারা হিসাব চাইবে , তখন এই কাব্য আর সুরা দিয়ে তো পার পাবেন না। ইবাদত করুন , জান্নাতের বাগানে হুর আর শরাবান - তহুরার প্রতিশ্রুতি তো খোদা দিয়েই রেখেছেন।

খলিফা আল-মুতামিদ: (৮৭০–৮৯২ খ্রি.) আব্বাসীয় খিলাফতের পুনরুজ্জীবন

Image
  খলিফা আল - মুহতাদির বীরত্বপূর্ণ মৃত্যুর পর তুর্কিরা বুঝতে পেরেছিল যে , খুব বেশি কড়া বা স্বাধীনচেতা কাউকে ক্ষমতায় বসানো তাদের জন্য বিপজ্জনক। আল - মুহতাদিকে হত্যার পর তুর্কি সেনাপতিরা পুনরায় আল - মুতাওয়াক্কিলের ( ৮৪৭ – ৮৬১ খ্রিস্টাব্দ ) বংশধরদের দিকে ফিরে যায়।আল - মুতামিদ ছিলেন আল - মুতাওয়াক্কিলের জ্যেষ্ঠ জীবিত পুত্র। তাঁকে যখন সামাররার রাজপ্রাসাদে আনা হয় , তিনি তখন মূলত তুর্কিদের নজরবন্দি অবস্থায় ছিলেন।তুর্কিরা তাঁকে এই শর্তে ক্ষমতায় বসায় যে , তিনি তাদের স্বার্থে আঘাত করবেন না।তাই তারা আল - মুতাওয়াক্কিলের বড় ছেলে আল - মুতামিদ আলাল্লাহ - কে ( ৮৭০ – ৮৯২ খ্রি .) খিলাফতের পঞ্চদশ খলিফা হিসেবে মনোনীত করে।৮৭০ খ্রিস্টাব্দের জুন মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে খলিফা হিসেবে শপথ নেন।