পশ্চিমা বিশ্ব কেন ইসলামকে ভয় পায় তার ৫টি কারণ




এক নাম্বার : অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।

ইসলাম পশ্চিমা পুঁজিবাদের ভিত্তিকেই  চ্যালেঞ্জ করে।কোনো সুদ নেই ,কোনো শোষণ নেই।ঋণের ফাঁদে মানুষকে আটকে রাখার কোনো সুযোগ নেই। ইসলাম বলে সম্পদ শুধু কিছু মানুষের হাতে জমে থাকবে না।এটা সমাজে ঘুরবে,সবার উপকারে আসবে।ন্যায়,দান,সীমাবদ্ধতা।এই ব্যবস্থা সেইসব শিল্পের জন্য হুমকি। যখন পুরো অর্থনীতি দাঁড়িয়ে থাকে মানুষকে ঋণের বোঝায় আটকে রাখার উপর।তখন এমন এক দীন যা মানুষকে মুক্তি দেয় তা তাদের জন্য অস্বস্তিকর।

দুই নাম্বার : মদ্যপান ও বিনোদন ব্যবসা ।

সত্যি বলি, পশ্চিমা অর্থনীতির বড় একটা অংশ চলে মানুষের মনোযোগ নষ্ট করে। মদ, নাইট ক্লাব,জুয়া,অশ্লীলতা। হাইপার সেক্সসুয়াল মিডিয়া , এগুলো কেবল বিনোদন নয়। এগুলো কোটি কোটি ডলারের শিল্প। ইসলাম বলে, মনকে রক্ষা করো। আপনার পরিবারকে রক্ষা করো, আপনার মর্যাদা রক্ষা করো। মানুষ যদি ভোগ বিলাসের বদলে শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবন বেছে নেয়, তাহলে তাদের অনেক বড় ব্যবসা নষ্ট হবে। এটা শুধু সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব নয়- এটা অর্থনৈতিক হুমকি। এটা কোনো সাংস্কৃতিক সংঘাত নয়-এটা অর্থনৈতিক হুমকি।

তিন নাম্বার: স্বাস্থ ও অপরাধ।

যেসব সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ শক্তিশালী সেখানে সাধারণত মাদক কম,মাদকাসক্তি তুলনামূক কম। সহিংসতার হার কম। পরিবার বেশি শক্তিশালী, মানসিক স্থিতি বেশি। যখন ঈমান সমাজে স্থিতিশীলতা আনে, তখন তা সেইসব বেবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করে, যারা ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করে পুলিশ, জেলখানা ও স্বাস্থ্যখাতে। একটা কার্যকর সমাজ পশ্চিমাদের ব্যবসার  জন্য ভালো খবর না। অপরাধমুক্ত সমাজ পশ্চিমা বিশ্বের জন্য কোনো সুখবর নয়, আর একারণেই তারা বিভিন্ন দেশে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করে থাকে।

চার নাম্বার : নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়।

ইসলাম শিক্ষা কিছু মানুষের জন্য বিপদজনক। ইসলাম মানুষকে একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ও নৈতিকতাভিত্তিক বৈশ্বিক পরিচয় (উম্মাহ) দেয়। যেসব মানুষ এই আদর্শ ধারণ করে, তাদেরকে কেবল সস্তা মার্কেটিং বা রাজনৈতিক ভীতি ছড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। শৃঙ্খলিত ও চিন্তাশীল মানুষ যখন কর্পোরেট দাসত্ব ও অন্ধ ভোগবাদকে বুড়ো আঙুল দেখাতে শেখে, তখন পুরোনো ক্ষমতার কাঠামো স্বাভাবিকভাবেই ভয় পায়।

পাঁচ নম্বর :মিডিয়া নেরেটিভ।

বছরের পর বছর গড়া মিডিয়া নেরেটিভ ইসলামকে ভিলেন হিসেবে উপস্থাপন করে আসছে । ইসলাম মানে জঙ্গি, দাঁড়ি টুপি মানেই জঙ্গি এই কৃত্রিম ভয় মানুষের মনে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।ভয় মানুষকে বিভক্ত রাখে, ভয় মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে। যদি ইসলাম কে শান্তি প্রদর্শনকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয় তবে নৈতিক ও পরিবর্তনকারীর মিথ্যাবৃত্তি ভেঙে যায় এবং সাথে সাথে সব ভেঙে পরে।কারণ, মিডিয়াতে ভয় ও বিতর্ক খুব ভালো বিক্রি হয়। এই ভয় মানুষকে বিভক্ত রাখে এবং শাসক গোষ্ঠীর জন্য তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়। যদি ইসলামের প্রকৃত রূপ ও শান্তির বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায়, তবে পশ্চিমাদের তৈরি করা এই মিথ্যা বয়ান তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।

দিনশেষে, পশ্চিমাদের আসল ভয় কিন্তু ধর্ম হিসেবে ইসলামের ওপর নয়, বরং ইসলাম যে সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থার কথা বলে, তার ওপর। একটি সুশৃঙ্খল জীবন, মজবুত পরিবার এবং স্বাধীন চিন্তাধারা-যা কোনো কর্পোরেট মার্কেটিং ছাড়াই টিকে থাকতে পারে, পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী মূলত সেই নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয়টাই পায়।


 আরো জানতে ক্লিক করুন:  বাংলার ইতিহাস

আরো জানতে ক্লিক করুন: ইসলামের ইতিহাস

Comments

Popular posts from this blog

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) শাহাদাতের পর আরবের পরবর্তী ১১৮ বছরের রাজনীতি

আবু বকর (রা.) ইসলামের প্রথম খলিফা: (৬৩২-৬৩৪ খ্রি.)

"আরব্য রজনীর রূপকথার রাজা" খলিফা হারুন-অর-রশিদ (৭৮৬-৮০৯ খ্রিস্টাব্দ) ও ক্ষমতার জন্য গৃহযুদ্ধ (৮০৯-৮১৩ খ্রিস্টাব্দ)