মৃতরা কী চায়? এক বুজুর্গের হৃদয় কাঁপানো স্বপ্ন ...

 


এক বুজুর্গ একদিন সন্ধ্যাবেলা একটি নির্জন কবরস্থানের পাশ দিয়ে পথ চলছিলেন। চারদিকে গভীর নীরবতা,শুধু হাওয়ার মৃদু স্পর্শ আর দূরের কোনো কুকুরের ডাক ছাড়া আর কিছুই শোনা যাচ্ছিল না। তিনি থামলেন। চোখ বুজে কবরবাসীদের কথা স্মরণ করলেন। তাদের জন্য দরদ ভরা মনে কয়েকটি সূরা পাঠ করলেন—সূরা ইয়াসীন, সূরা মুলক এবং আরও কিছু দোয়া। এরপর তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে সওয়াব পৌঁছে দিলেন ।বললেন , হে আল্লাহ! এই কবরবাসীদের কবরকে প্রশস্ত করুন এবং  তাদেরকে আযাব থেকে হেফাজত করুন।

এরপর, তিনি বাসা গেলেন এবং সেদিন রাতে ঘুমিয়ে পড়লেন। অল্পক্ষণ পরই এক অদ্ভুত ও বিস্ময়কর স্বপ্ন দেখলেন।

স্বপ্নে তিনি দেখলেন—সেই কবরস্থানের সব কবর খুলে গেছে। মৃত ব্যক্তিরা সবাই এক জায়গায় জড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের চেহারায় অসীম কষ্ট, চোখে অশ্রু, মুখে হাহাকার।

কেউ হাত তুলে আকাশের দিকে তাকিয়ে কাঁদছে, কেউ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আর্তনাদ করছে। তাদের কণ্ঠে একই আওয়াজ— আমাদের কিছু দাও...... আমরা ক্ষুধার্ত....... পিপাসার্ত....... আমাদের শান্তি দাও!

এরপর, হঠাৎ আকাশ থেকে একজন আলোকময় ব্যক্তি নেমে এলেন। তাঁর হাতে একটি বড় নূরের পুঁটলি। পুঁটলিটি মাটিতে রাখা মাত্রই সেই হাহাকার থেমে গেল। সবাই যেন ক্ষুধার্ত শিশুর মতো সেই দিকে ছুটে গেল। তারা পুঁটলি খুলে দেখল—ভিতরে তাদের জন্য পাঠানো সওয়াবের আলো, দোয়ার নূর, কুরআন তিলাওয়াতের বরকত, সদকার সওয়াব আর জীবিতদের দেয়া মাগফিরাতের দরখাস্ত।

যারা সেই নূর গ্রহণ করতে পারল, তাদের চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তাদের কবর আলোকিত হয়ে গেল, আর্তনাদ থেমে গেল, মুখে ফুটল শান্তির হাসি। কিন্তু যারা খালি হাতে ফিরে এল, তাদের হাহাকার আরও জোরালো হয়ে উঠল। তারা কাঁদতে কাঁদতে বলছিল—

আমাদের জন্য কেউ কিছু পাঠায়নি... কেউ আমাদের স্মরণ করেনি... আমরা এখানে একা... অন্ধকারে... কষ্টে......

বুজুর্গ জিজ্ঞাসা করলেন, এই নূর কী ছিল?

উত্তর এল— 

"এ হলো জীবিতদের পক্ষ থেকে মৃতদের জন্য পাঠানো সওয়াব। যারা জীবিত অবস্থায় কুরআন পড়ে, দোয়া করে, সদকা দেয়, কবর জিয়ারত করে—সেই সব আমলের নূর এখানে পৌঁছায়। এটাই কবরবাসীদের একমাত্র সান্ত্বনা, একমাত্র আলো।"

স্বপ্ন ভেঙে গেল। বুজুর্গের চোখে অশ্রু। তিনি উঠে বসলেন, তাহাজ্জুদ পড়লেন এবং আরও বেশি করে দোয়া করলেন—নিজের জন্য, পরিবারের জন্য আর সব মৃত মুসলিম ভাই-বোনদের জন্য।

এরপর থেকে তিনি প্রতিদিন কবরস্থানে যেতেন, কুরআন পড়তেন এবং দোয়া করতেন। মানুষকে বলতেন—

"ভাইয়েরা! মৃত্যুর পর আমাদের কবরে অন্ধকার আর হাহাকার ছাড়া আর কিছু থাকবে না—যদি না জীবিত অবস্থায় আমরা আমল করে যাই।"

তিনি আরও মনে করিয়ে দিতেন যে, মানুষ মারা গেলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু তিনটি জিনিস জারি থাকে-

  1. সদকায়ে জারিয়া

  2. উপকারী ইলম

  3. সৎ সন্তানের দোয়া

এই স্বপ্ন তাঁকে শিখিয়েছিল—মৃত্যু শেষ নয়, বরং শুরু। আর কবর হলো প্রথম মঞ্জিল। সেখানে হয় শান্তির বাগান, নয়তো কষ্টের আগুন।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবরের আযাব থেকে হেফাজত করুন এবং আমাদের জন্য কবরকে জান্নাতের বাগান বানিয়ে দিন। আমীন।

সওয়াবের নিয়তে এই সুন্দর শিক্ষাটি সবার সাথে শেয়ার করতে পারেন।


এছাড়া ইসলামের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন: ইসলামের ইতিহাস

Comments

  1. আল্লাহ আমাদের গুনাহগুলো মাফ করে দিও।

    ReplyDelete

Post a Comment

Popular posts from this blog

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) শাহাদাতের পর আরবের পরবর্তী ১১৮ বছরের রাজনীতি

আবু বকর (রা.) ইসলামের প্রথম খলিফা: (৬৩২-৬৩৪ খ্রি.)

"আরব্য রজনীর রূপকথার রাজা" খলিফা হারুন-অর-রশিদ (৭৮৬-৮০৯ খ্রিস্টাব্দ) ও ক্ষমতার জন্য গৃহযুদ্ধ (৮০৯-৮১৩ খ্রিস্টাব্দ)