ইরান প্রাচীন বিশ্বের প্রথম সুপারপাওয়ারগুলির মধ্যে একটি
এখন যুদ্ধের কারণে ইরান বারবার মিডিয়ায় আসে, প্রতি ঘন্টায় কয়েকবার খবর প্রকাশ হয়। ইরান সম্পর্কে আমার মনে কিছু সাধারণ জ্ঞান আছে। যেমন ইরান শিয়াদের দেশ, খোমেনি, আমেরিকার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই ইত্যাদি।
কিন্তু আমরা ইরান সম্পর্কে অনেক কিছুই জানি না। তাই এখানে কয়েকটি সাধারণ তথ্য দিলাম:
১। ইরানের সভ্যতা অত্যন্ত প্রাচীন। এটি প্রাচীন বিশ্বের প্রথম সুপারপাওয়ারগুলির মধ্যে একটি বলে ধরা হয়।
২। আরব মুসলিমদের আগমনের আগে ইরানের প্রধান ধর্ম ছিল জরথুস্ত্রীয় বা পারসিক ধর্ম। এর প্রবর্তক ছিলেন জরাথুষ্ট্র। জরাথুষ্ট্রের জন্ম গৌতম বুদ্ধের প্রায় ১০০ বছর আগে। বর্তমানে এই ধর্মের অনুসারী ইরানের তুলনায় ভারতে বেশি।
৩। ইরানের আয়তন ১৬,৪৮,০০০ বর্গকিলোমিটার, যা বাংলাদেশের প্রায় ১১ গুণ বড় এবং পাকিস্তানের প্রায় দ্বিগুণ। ভারতের তুলনায় এটি প্রায় অর্ধেক। ইরানে পাহাড়, সাগর, বন, সমতল ভূমি এবং মরুভূমি সবই আছে। জলবায়ু এতটাই বৈচিত্র্যময় যে একই সময়ে দেশের বিভিন্ন অংশে চারটি ভিন্ন ঋতুর আবহাওয়া দেখা যায়।
৪। এত বড় দেশের জনসংখ্যা প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ, যা বাংলাদেশের অর্ধেকের মতো। বেশিরভাগ মানুষের ভাষা ফার্সি। এছাড়া বেলুচি, কুর্দি ভাষাও ফার্সি বা ইরানী পরিবারের। প্রধান ভাষা হিসেবে আজেরি (তুর্কি ভাষার পরিবার) এবং আরবি (সেমিটিক ভাষার পরিবার)ও ব্যবহৃত হয়।
৫। ইরানীদের প্রধান খাবার গম, তাই ইরানে অনেক গম উৎপাদিত হয়। গম বলতে রুটি বোঝায়। নান শব্দটি ফার্সি থেকে উদ্ভূত। তারা কি ভাত খায়? হ্যাঁ, খায় এবং বেশ পছন্দ করে। তবে তাদের পছন্দের চাল হলো লম্বা সুগন্ধি ধানের চাল। ইরানের চাল বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং দামি। এছাড়াও ভারত ও পাকিস্তান থেকে বাসমতি চাল আমদানি করে। সাধারণত ভাতে তারা সামান্য তেল ও লবণ দেয় এবং খুব বেশি না খায়।
৬। মাংসের মধ্যে ইরানীরা ভেড়ার মাংস সবচেয়ে বেশি খায়, ছাগলের মাংসও কিছু প্রদেশে খাওয়া হয়। তবে আধুনিক সময়ে গরুর মাংসও বেশি ব্যবহৃত হয়। ইরানী রান্নার প্রভাব ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে দেখা যায়। এর প্রধান কারণ হলো মোঘল সম্রাটরা ইরানের (ফার্সি) ভাষা, খাবার, পোশাক ও সংস্কৃতির প্রতি ভক্ত ছিলেন।
৭। ইরানের বছরের প্রথম দিনকে বলা হয় নওরোজ। এটি মার্চ মাসের ২০ বা ২১ তারিখে শুরু হয়, অর্থাৎ আমাদের পহেলা বৈশাখের প্রায় ২৩–২৪ দিন আগে। নওরোজ মূলত বসন্তকালের প্রথম দিন। মোঘলরা নওরোজ অত্যন্ত জাকজমকভাবে উদযাপন করতো, ঢাকার নবাবরাও এতে অংশ নিতেন।
৮। ইরানীরা শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ভক্ত। ফেরদৌসীর শাহনামা বিশ্বে একক কবির রচিত বৃহত্তম মহাকাব্য। এছাড়া রুদাকি, ওমর খৈয়াম, শেখ সাদি, জালালুদ্দিন রুমি অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে ইরানে সবচেয়ে জনপ্রিয় কবি হলেন হাফেজ, এবং হাফেজের কবিতার বই ইরানের অধিকাংশ পরিবারে থাকে।
৯। জ্ঞান ও বিজ্ঞানে ইরানীদের অবদান অনবদ্য। মুসলিমদের স্বর্ণযুগ, অর্থাৎ আব্বাসি খলিফাদের সময়ের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের মধ্যে অনেকেই ইরানী ছিলেন।
১০। ইরানী স্থাপত্যের প্রভাব মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, তাজমহলের নির্মাণে ইরানী স্থাপত্য রীতির প্রভাব স্পষ্ট। এটি নির্মিত হয়েছিল মমতাজ মহলের জন্য, যিনি ইরানের বংশোদ্ভূত ছিলেন। তার আপন ফুফু, সম্রাজ্ঞী নুরজাহান, তেহরানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
সংগ্রহীত :

Comments
Post a Comment