সুলাইমান বিন আবদুল মালেক : (৭১৫–৭১৭ খ্রিস্টাব্দ)
খলিফা ওয়ালিদ বিন আবদুল মালেকের মৃত্যুর পর তাঁর ভাই সুলাইমান বিন আবদুল মালেক ৭১৫ খ্রিস্টাব্দে উমাইয়া খিলাফতের সিংহাসনে বসেন। যদিও তাঁর শাসনকাল ছিল মাত্র ২ বছর ৮ মাস,কিন্তু এই অল্প সময়েই তিনি ইতিহাসে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়ে গেছেন।
সুলাইমান বিন আবদুল মালেকের শাসনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপল (বর্তমান ইস্তাম্বুল) জয় করা। তিনি তাঁর ভাই মাসলামা বিন আবদুল মালেকের নেতৃত্বে প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার সৈন্য এবং ১,৮০০ জাহাজের এক বিশাল বাহিনী পাঠান।
এই অবরোধ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলেছিল। কিন্তু প্রচণ্ড শীত, খাদ্য সংকট এবং বাইজান্টাইনদের গ্রিক ফায়ার (এক ধরণের অগ্নিনির্বাপক অস্ত্র যা পানিতেও জ্বলে)-এর কারণে মুসলিম বাহিনী ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। সুলাইমানের মৃত্যুর পর এই অভিযান স্থগিত করা হয়। এটি ছিল উমাইয়াদের অন্যতম বড় সামরিক বিপর্যয়।সুলাইমানের শাসনের একটি অন্ধকার দিক ছিল তাঁর পূর্বসূরি ওয়ালিদের প্রিয় সেনাপতিদের ওপর প্রতিশোধ গ্রহণ।-
হাজ্জাজ বিন ইউসুফের প্রভাব: সুলাইমানের সাথে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল। হাজ্জাজ মারা গেলেও সুলাইমান তাঁর পরিবারের ওপর অত্যাচার করেন।
বিজয়ী বীরদের পতন: তিনি সিন্ধু বিজয়ী মুহাম্মদ বিন কাসিম, মধ্য এশিয়া বিজয়ী কুতাইবা বিন মুসলিম এবং স্পেন বিজয়ী মুসা বিন নুসাইর-এর মতো সফল সেনাপতিদের পদচ্যুত করেন এবং তাঁদের সাথে অত্যন্ত অমর্যাদাকর আচরণ করেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তের ফলে সাম্রাজ্যের সামরিক গতি থমকে যায়।
তবে, সুলাইমানের একটি প্রশংসনীয় কাজ ছিল বন্দীদের মুক্তি দেওয়া। হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সময়ে রাজনৈতিক কারণে অনেক মানুষকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল। সুলাইমান ক্ষমতায় এসেই ইরাকের কারাগারগুলো উন্মুক্ত করে দেন এবং হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষকে মুক্তি দেন। এই কারণে মক্কার অনেক আলেম তাঁকে মিফতাহুল খায়ের বা কল্যাণের চাবিকাঠি উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
সুলাইমানের শাসনের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং প্রভাববিস্তারি সিদ্ধান্ত ছিল তাঁর মৃত্যুর ঠিক আগের উত্তরাধিকারী নির্বাচন।
উমর ইবনে আবদুল আজিজের মনোনয়ন: সুলাইমান তাঁর
নিজের
সন্তানদের খলিফা
না
করে
তাঁর
চাচাতো
ভাই
এবং
পরহেজগার ব্যক্তিত্ব হযরত উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.)-কে খলিফা মনোনীত
করেন।
পরামর্শদাতার ভূমিকা: বিখ্যাত আলেম রাজা ইবনে
হাইওয়াহর পরামর্শে তিনি
এই
কাজ
করেছিলেন। এর
ফলে
উমাইয়া
বংশে
আবার
ইনসাফ
ও
ন্যায়বিচার ফিরে
আসে।
অনেকে
মনে
করেন,
এই
একটি
সিদ্ধান্তের কারণেই
সুলাইমানের পূর্বের অনেক
ভুল
ঢাকা
পড়ে
যায়।
মৃত্যু: সুলাইমান বিন আবদুল মালেক অত্যন্ত সৌখিন এবং ভোজনরসিক মানুষ ছিলেন। বলা হয়, তিনি একাই প্রচুর খাবার খেতে পারতেন। তিনি খুব সুন্দর সুতির কাপড় ও জমকালো পোশাক পরতে পছন্দ করতেন। ৭১৭ খ্রিস্টাব্দে সিরিয়ার উত্তর দিকে দাবিক নামক স্থানে কনস্টান্টিনোপল অভিযানের তদারকি করার সময় তিনি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
আরো জানতে ক্লিক করুন: মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) শাহাদাতের পর আরবের শাসন

Comments
Post a Comment