লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর বড় বিপর্যয়: হিজবুল্লাহর সারপ্রাইজ প্রতিরোধের মুখে পিছু হটছে তেল আবিব?

 


লেবাননের রেজিস্ট্যান্স ফোর্স ও হিজবুল্লাহ ছিলো এই যুদ্ধে ইসরায়েলের জন্য সারপ্রাইজ। ইসরায়েল ভেবেছিলো পেজার অ্যাটাক করে ও লাগাতার সিজফায়ার ভায়োলেশন করে, ইচ্ছেমতো বোম্বিং করে তারা হিজবুল্লাহকে শেষ করে দিয়েছে।

তাই ইসরায়েল লেবাননে ঢুকে গিয়েছিলো জমি দখল করতে। নেতানিয়াহু ঘোষণা করেছে লেবাননের জমি দখল করে বাফার জোন বড় করার। কিন্তু লেবাননের রেজিস্ট্যান্স ফোর্স এত শক্ত প্রতিরোধ করছে, যা ইসরায়েল কল্পনাও করেনি।

২৬শে মার্চ, ২০২৬। 'অপারেশন ডিভোর্ড স্ট্র'-এর অধীনে লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধারা ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তা সাম্প্রতিক যুদ্ধের ইতিহাসে নজিরবিহীন। হিজবুল্লাহর মিলিটারি মিডিয়া ও বিভিন্ন সংবাদ সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৫শে মার্চের ৮৭টি অপারেশনের রেশ কাটতে না কাটতেই পরের দিন তারা মোট ৯৪টি বিধ্বংসী সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে।

এই একদিনের লড়াইয়ে দখলদার বাহিনীর গর্ব 'মারকাভা' ট্যাংকগুলোর ভয়াবহ পরিণতি হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা মাত্র ২৪ ঘণ্টায় মোট ২৮টি মারকাভা ট্যাংক নিখুঁত নিশানায় ধ্বংস বা অকেজো করে দিয়েছে। এর মধ্যে কেবল দাইর সেরিয়ান এলাকাতেই ৭টি এবং আল-কান্তারা এলাকায় ১৫টি ট্যাংক হিজবুল্লাহর অ্যান্টি-ট্যাংক গাইডেড মিসাইলের শিকারে পরিণত হয়েছে।

যদি একটি ট্যাংকে ৩-৪ জন করে সৈন্য থাকে, তাহলে সহজেই অনুমান করা যায়, ইসরায়েলের অনেক সৈন্য হতাহত হয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তাদের সেনাবাহিনীর একটি যৌথ স্পেশাল ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিট 'ইয়াহালোম'-এর একটি দল লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের এক বিশাল অ্যাম্বুশ বা চোরাগোপ্তা হামলার শিকার হয়েছে।

লেবাননের রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের অ্যাম্বুশ একদম নাস্তানাবুদ করে দিচ্ছে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীকে।


যুদ্ধের তীব্রতা কেবল সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই। হিজবুল্লাহর ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো সরাসরি আঘাত হেনেছে তেল আবিবের কেন্দ্রে অবস্থিত ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর বা হাকিরিয়া কমপ্লেক্সে। হাইফা নৌঘাঁটি এবং বিভিন্ন এয়ার ডিফেন্স সেন্টারেও নিখুঁতভাবে রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে সূত্রগুলো দাবি করছে। একইসঙ্গে দাদো বেস এবং রামাত নাফতালির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোও হিজবুল্লাহর নিশানায় ছিল।

ইসরায়েল ভেবেছিলো যে হিজবুল্লাহর রকেট ও মিসাইল স্টোরেজ তারা শেষ করে দিয়েছে। কিন্তু এত ক্ষয়ক্ষতির পরও হিজবুল্লাহ লাগাতার ব্যালিস্টিক মিসাইল ও রকেট ফায়ার করা আসলেই সারপ্রাইজিং।

ইসরায়েল লেবাননে (হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে) যুদ্ধ বা স্থল অভিযান সম্প্রসারণের জন্য ৪ লাখ রিজার্ভিস্ট সৈন্যকে ডেকেছে।

কিন্তু রিজার্ভিস্টরা সবাই লেবাননে যুদ্ধে যেতে রাজি হচ্ছে না। যেখানে ইসরায়েলের মন্ত্রীর ছেলের কলিজা ছিঁড়ে গেছে, সেখানে সাধারণ সৈনিক তো ভয়ে থাকারই কথা।

লেবাননেই হচ্ছে আসল গ্রাউন্ড ব্যাটেল। ইসরায়েল আকাশ থেকে বোমা ফেলে, শিশুদের হত্যা করে, সাধারণ মানুষকে হত্যা করে, তারা বিশ্বের এক নম্বর ফোর্স হয়ে গিয়েছিলো। যখন সত্যিকারের প্রতিরোধ সামনে থেকে আসছে, তখন বিশাল ক্ষয়ক্ষতি নিতে হচ্ছে, আর এতে তারা অভ্যস্ত নয়।

Comments

Popular posts from this blog

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) শাহাদাতের পর আরবের পরবর্তী ১১৮ বছরের রাজনীতি

আবু বকর (রা.) ইসলামের প্রথম খলিফা: (৬৩২-৬৩৪ খ্রি.)

"আরব্য রজনীর রূপকথার রাজা" খলিফা হারুন-অর-রশিদ (৭৮৬-৮০৯ খ্রিস্টাব্দ) ও ক্ষমতার জন্য গৃহযুদ্ধ (৮০৯-৮১৩ খ্রিস্টাব্দ)